শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ দিন পরও অংশগ্রহণকারী দুই শতাধিক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে। চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ না করায় তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় বুধবার (১৫ জুলাই) বরিশালের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এ কারণে প্রায় ২০০ স্টলের পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও কর্মচারী চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে উদ্যোক্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত ২৬ মে বরিশাল নগরীর পরেশসাগর মাঠে বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়। আয়োজক ছিল বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। নিয়ম অনুযায়ী গত ২৬ জুন মেলার অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, মেলার সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে বলে তাদের ১০ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ায় ১০ জুলাই মেলা বন্ধের নির্দেশ দেয় চেম্বার কর্তৃপক্ষ। এরপর নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবসায়ীরা তাদের স্টলের মালামাল গুছিয়ে ফেলেন।
মেলার ব্যবসায়ী মো. সাগরসহ একাধিক উদ্যোক্তা অভিযোগ করে বলেন, “মালামাল নিয়ে ফেরার জন্য আয়োজকদের কাছে ছাড়পত্র চাইলে তারা অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। ওই টাকা পরিশোধ না করলে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।”
তারা আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেলায় প্রত্যাশিত দর্শনার্থী হয়নি। তারপরও চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিনের স্টল ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। এখন অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় স্টলের মালামালসহ মেলার দুই পাশের গেট আটকে রাখা হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে মেলার টিনের বেড়া ভেঙে তারা সেখান থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তারা দ্রুত এই জিম্মিদশার অবসান ঘটিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে ব্যবসায়ীদের মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেলা কমিটির সদস্য দিন ইসলাম। তিনি বলেন, “মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই ১৫ জুলাই থেকে চার দিনের জন্য মেলার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলায় উভয় পক্ষেরই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কাউকে জিম্মি করে রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ যেতে চাইলে তাকে আটকে রাখার সুযোগও নেই।”
উদ্যোক্তাদের মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ছিল, যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে।”
এদিকে মেলায় অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ‘সবুজ’ নামের এক ব্যক্তি বরিশাল চেম্বারের পক্ষে মেলার আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি মেলায়ও তিনি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। সে সময় ব্যবসায়ীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯—এ ফোন করে উদ্ধার হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সবুজ নামের ওই ব্যক্তি।
মেলার সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন। তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগেই মেলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। চেম্বারের পক্ষ থেকে যতদূর জেনেছি, যারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করেছে তারা উদ্যোক্তাদের কাছে কিছু টাকা পাবে। সেই টাকা নিয়েই বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, “মেলার স্টলের উদ্যোক্তাদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি এখানে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ—খবর না নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”