বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়—সংলগ্ন খালপাড় সড়কের একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম উচ্ছ্বাস কর্মকার (২৭)। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮—১৯ শিক্ষাবর্ষের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা বিভাগে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছ্বাস কর্মকার কয়েক মাস আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে বরিশালের বাইরে চলে যান। তবে প্রায় দেড় মাস আগে তিনি পুনরায় বরিশালে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়—সংলগ্ন খালপাড় সড়কের একটি ভবনের নিচতলায় একা একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি তার অধিকাংশ বন্ধু—বান্ধব ও সহপাঠীরা জানতেন না, ফলে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল না।
সহপাঠীরা জানান, উচ্ছ্বাস অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও মিশুক স্বভাবের ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত ও বিস্মিত।
মঙ্গলবার রাতে পাশের ফ্ল্যাটে থাকা শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসের কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ছেলেটি আত্মহত্যা করেছেন বলে শুনেছি। তার বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।”
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বরিশাল নগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।