নাটোরের গুরুদাসপুরে অস্ত্রোপচারের সময় এক নারীর পায়ের হাড়ে ড্রিল মেশিনের ভাঙা ফলা রেখেই ক্ষতস্থান সেলাই করার অভিযোগে অর্থোপেডিক সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নাটোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গঠিত ওই কমিটিকে আগামী ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান।
গত ২০ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে। এরপরই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গুরুদাসপুর উপজেলার ধাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম (৫৫)—এর বাম পায়ে গত ৩ জুন বড়াইগ্রামের বনপাড়া জাহেদা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করেন ডা. জাহিদুল ইসলাম। ভুক্তভোগীর দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত ড্রিল মেশিনের একটি ফলা ভেঙে হাড়ের ভেতরে থেকে গেলেও তা অপসারণ না করেই ক্ষতস্থান সেলাই করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়।
ওই ট্রমা সেন্টারের অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আয়ুব আলী জানান, পরীক্ষা—নিরীক্ষায় রোগীর হাড়ের ভেতরে ড্রিল মেশিনের ভাঙা ফলা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে হাড় জোড়া দিতে ব্যবহৃত প্লেটের স্ক্রুগুলোও সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি। সংক্রমণ ছড়িয়ে ক্ষতস্থানে মাংসপচন শুরু হওয়ায় অস্ত্রোপচার করে পচনধরা টিস্যু অপসারণ এবং অন্য স্থান থেকে টিস্যু প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে। তবে হাড়ের গভীরে আটকে থাকা ড্রিলের ফলা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গত ২০ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারীর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলমাছ বলেন, হাসপাতালের কোনো কর্মচারীর ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।