, , ,
শিরোনাম
বরিশালে ট্রাক আটকে চাঁদা না পেয়ে অবৈধ রেনুপোনা লুট করে বিক্রি করলো ছাত্রদল! বরিশালে বিএনপির কমিটিতে মৃতের নাম, আহ্বায়ক ‘জামায়াতের গুপ্ত’ বেগম জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ, শাস্তির মুখে ৩ নারী পুলিশ কর্মকর্তা পায়ে ড্রিলের ফলা রেখে সেলাই, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি গোপালগঞ্জে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক বাবুগঞ্জের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রায় কর্মদিবসেই অনুপস্থিত সহকারী প্রকৌশলী সুমন, সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি! উজিরপুরে মৎস্য বিভাগের অভিযানে অর্ধকোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ রান্নার পর সবুজ হয়ে গেল গরুর মাংস এমপি গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করল জামায়াত নির্বাহী পরিষদের বৈঠক ডেকেছে জামায়াত, বহিষ্কার হতে পারেন এমপি গাজী নজরুল
নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে সয়লাব নলছিটির খাল—বিল, হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজনন

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে সয়লাব নলছিটির খাল—বিল, হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজনন

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না দুয়ারী জালের অবাধ ব্যবহার ও বিক্রির কারণে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন জালের দোকানে গোপনে এসব জাল বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই উপজেলা জুড়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও ধানক্ষেতে ব্যাপক হারে চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানিতে ফেলে রাখা যায় বলে অসাধু মৎস্য শিকারিদের কাছে এ জালের চাহিদা বেড়েছে। ফলে মাছের রেণু, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে।

নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, “একসময় কারেন্ট জাল দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস করেছে, এখন সেই ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। এই জালে মাছের রেণুসহ প্রায় সব ধরনের জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। সরকার নিষিদ্ধ করলেও গ্রামের খাল—বিল ও ধানক্ষেতে প্রকাশ্যে এই জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। অনেকেই একবার জাল পেতে মাসের পর মাস পানিতে ফেলে রাখেন, যার ফলে অসংখ্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।”

স্থানীয় শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, “এখন গ্রাম্য বাজারগুলোতে দেশীয় মাছের প্রাধান্য আগের মতো নেই। ইতোমধ্যে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আর যেগুলো আছে সেগুলোও হুমকির মুখে। দেশীয় মাছ আমাদের আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসব মাছ কমে যাওয়ায় বাজার হাইব্রিড মাছে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। তাই চায়না দুয়ারী জালের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবী জানান, “চায়না দুয়ারী জাল সহজে নষ্ট বা পচে না, ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। দেশীয় সুতা দিয়ে তৈরি জাল নিয়মিত উঠিয়ে শুকাতে হয়, কিন্তু চায়না দুয়ারী জাল মাসের পর মাস পানিতে ফেলে রাখা সম্ভব। এছাড়া এসব জালের দামও তুলনামূলক কম এবং বিভিন্ন দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।”

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, “দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে আমরা সারা বছরই চায়না দুয়ারী জালসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বর্ষা মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় খুব শিগগিরই উপজেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসকে সঙ্গে নিয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost