
বরিশালে সেনাবাহিনীর মেসে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তার চক্রের বিরুদ্ধে। নিজেকে লেবুখালী সেনানিবাসের মেডিকেল ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে আস্থা অর্জন এবং পরবর্তীতে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করার অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার নাম্বার সি আর —১৩৭০/২০২৬,সি আর —১৩৭০/২০২৬।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকার মাসুম ভিলার বাসিন্দা নুসরাত জান্নাত লাবনী,তার সহযোগী আপেল এবং আপেলের স্ত্রী মনিকা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতারক চক্রটি সেনাবাহিনীর মেসে বাবুর্চির চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী জুলেখা বেগমের কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং সালমা নামের অপর এক নারীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
অভিযুক্ত নুসরাত জান্নাত লাবনী বাখেরগঞ্জ উপজেলার দুধল গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে। অন্যদিকে দালাল আপেল বরিশাল ক্যান্সার হাসপাতালে ফোরম্যান হিসেবে কর্মরত এবং তার বাড়ি রাজশাহীতে। অনুসন্ধানে জানা যায়,অভিযুক্ত নুসরাত মূলত একজন সরকারি সৈনিকের স্ত্রী। সরকারি পরিচয়ের আড়ালে তিনি প্রতারণার এই ফাঁদ পেতেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী জুলেখা বেগম জানান,টাকা নেওয়ার পর প্রতারণা আড়াল করতে নুসরাত তাকে একটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে দেন। নুসরাত বলেন আগামী মাস থেকেই অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা জমা হবে,আপনার চাকরি স্থায়ী হয়ে গেছে। অন্যদিকে সালমাকে মাস্টাররোলে চাকরির আশ্বাস দিয়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি,নুসরাতের সাথে ৫ থেকে ৭ জন নারীর একটি বিশেষ দল রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধাপে জুলেখা বেগমের বাসায় গিয়ে টাকার লেনদেন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চাকরি না দিয়ে এবং টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া শুরু করে চক্রটি।
প্রতারণার শিকার দুই নারী প্রথমে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং মামলা দায়ের করেন।সালমা বেগমের মামলা নাম্বার সি আর —১৩৬৯/২০২৬ জুলেখা বেগমের মামলার নাম্বার সি আর —১৩৭০/২০২৬ কোতোয়ালি। ০৮ জুলাই ২০২৬ মামলা অজু হয় এবং ওসি কোতোয়ালীকেতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীর আরো বলেন নুসরাত যেখানে বাসা ভাড়া নেন সাথে করে আপেলও তার স্ত্রীকে মনিকা কে একই বাসায় দিয়ে যান।
এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,অভিযুক্ত নুসরাত জান্নাত লাবনীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবীদের বিয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্ত পক্ষ। তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নুসরাত লাবনীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি,আমি নিজে চাকরি করি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগীদের কাছে চক্রটির অর্থ লেনদেন ও প্রতারণার একাধিক অডিও এবং ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। আমরা সমস্ত ডকুমেন্টস সাক্ষী সহ সেনাবাহিনীর সিইও স্যারের কাছে যাবে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।