
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মেডিসিন-৪ ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. অমলেন্দু ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মস্থলে অনিয়ম, হাসপাতালের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক ডা. অমলেন্দু ভট্টাচার্য নিয়মিতভাবে বরিশাল নগরের বাংলাবাজার এলাকার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এন্ডোস্কপি ও কোলোনোস্কপি সেবা দিয়ে থাকেন। এর ফলে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না পেয়ে তারা ভোগান্তিতে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোগী ও তাদের কয়েকজন স্বজনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের আচরণ অনেক সময় রূঢ় ও অমার্জিত হয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় তথ্য বা পরামর্শ চাইতেও তারা অসন্তোষজনক আচরণের মুখোমুখি হন বলে দাবি করেন তারা। এতে রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়, যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অতীতে একাধিক চিকিৎসকের বদলি হলেও অধ্যাপক ডা. অমলেন্দু ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জনস্বার্থে জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ডা. অমলেন্দু ভট্টাচার্যের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে তিনি তার ব্যক্তিগত চেম্বারে দেখা করার পরামর্শ দেন।
এদিকে, নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন শহিদুল জানান, গত মঙ্গলবার থেকে তার রোগী মেডিসিন-৪ ইউনিটে ভর্তি থাকলেও এ পর্যন্ত তিনি ডা. অমলেন্দু ভট্টাচার্যকে ওয়ার্ডে মাত্র একবার দেখেছেন।
একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী কবিরুজ্জামান দাবি করেন, তিনি পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসককে মাত্র একদিন ওয়ার্ডে দেখেছেন।
এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একইভাবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউর মুনীরের মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।