
শেখ হাসিনার দেড় দশকের প্রধানমন্ত্রিত্বে বারে বারেই বিতর্কে জড়িয়েছে বাংলাদেশের সন্ত্রাসদমন বাহিনী ব়্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন)। উঠেছে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ। আওয়ামী লীগের আমলে কুখ্যাত হয়ে ওঠে সেই বাহিনীর অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। সোমবার তারেক মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থির হয়েছে, বাহিনীর নতুন নাম হবে ‘স্পেশ্যাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের ঠিক আগে ব়্যাবের বিলুপ্তির করার ঘোষণা করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূস সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত কোর কমিটির সুপারিশ মেনে ব়্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ বা এসআইএফ। কিন্তু সেই সুপারিশ গ্রাহ্য করল না তারেকের মন্ত্রিসভা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসআরবি আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানা বিদ্রোহ এবং হত্যাকাণ্ডের পরে বাংলাদেশ রাইফেল্স (বিডিআর) বাহিনীর নাম বদলে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) করা হয়েছিল।
ব়্যাবের প্রতিষ্ঠা ২০০৪ সালে। সে সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন তারেকের মা প্রয়াত খালেদা জিয়া। সে সময় থেকেই রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে। তা চরমে পৌঁছোয় ২০০৮—এ হাসিনা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করার কয়েক বছর পর থেকে। আওয়ামী লীগের বিরোধীদের অনেকে এই বাহিনীকে ‘মুজিবুর রহমানের জমানার রক্ষীবাহিনীর নতুন সংস্করণ’ বলে চিহ্নিত করতেন! সন্ত্রাসদমন, মাদক চোরাচালান রোধ, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অভিযানের জন্য গড়া এই বাহিনীকে হাসিনার জমানায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধীদের দমনপীড়ন, অবৈধ ভাবে আটক করে রাখা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, এমনকি গুপ্তহত্যার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে! শুধু বাংলাদেশের অন্দরে নয়, হাসিনার জমানায় মানবাধিকার লঙ্ঘন আর গুপ্তহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচিত হয়েছে ব়্যাবের নাম। ২০২০ সালে ব়্যাবের সিনিয়র কর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছিল আমেরিকার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি। সে সময় তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, হাসিনা জমানায় ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে ৪০০—র বেশি মানুষের বিচার—বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ব়্যাব ‘প্রত্যক্ষ ভাবে’ জড়িত!