, , ,
জুয়েলারি দোকান থেকে ৯৯ ভরি স্বর্ণ চুরি, গ্রেফতার ৬

জুয়েলারি দোকান থেকে ৯৯ ভরি স্বর্ণ চুরি, গ্রেফতার ৬

Reporter
প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

তিনি জানান, পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বিপ্লব বসাক (৫৩)। তার প্রতিষ্ঠানে রোমেন দে (৩৬) এক ব্যক্তি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে দোকানের স্টাফরা সোনার অলংকারের মজুত মেলানোর সময় অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি দোকানের মালিককে জানানো হলে তিনি বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশে রওনা দেন। মালিক আসার খবর পেয়ে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান।

পরে দোকানের মজুদ যাচাই করে দেখা যায়, রোমেন দে’র দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। ওই চুড়িগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম। এসব সোনার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। চুরি করা সোনার চুড়ির পরিবর্তে ওই বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকান মালিক বিপ্লব বসাক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দে—কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্সের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’—এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়। রোমেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালী থানার কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই দিনই মিয়াখান নগরের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’ থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম। পরদিন ২০ আগস্ট শ্যামল সিংহকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছে থাকা বাকি ৩৯টি স্বর্ণের চুড়িও বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শ্যামল সিংহের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি চুড়ি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি চুড়ি এবং বিভিন্ন বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আরও ২০টি চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির মধ্যে লিটন মহাজনের কাছ থেকে একটি, সাগর কারিগরের কাছ থেকে পাঁচটি, পার্থ মহাজনের কাছ থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজনের কাছ থেকে তিনটি চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার ‘মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি ও ‘শাহ আমানত জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি এবং চকবাজারের ‘ফেন্সী জুয়েলার্স’ থেকে দুটি ও ‘তাজমহল জুয়েলার্স’ থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি। এসব চুড়ির মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost