
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীকে লাঞ্ছিত ও হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত উপ—সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করা হয়েছে।
এমনকি টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না এবং ‘ভিজিট না দিলে রোগ ভালো হবে না’ বলেও হুমকি দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী মোর্শেদা বেগম উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিজের অসুস্থ ছয় বছর বয়সী ছেলে রেজাউল করিমকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে যান তিনি।
মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, চরম আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। শুক্রবার ধারদেনা করে এক হাজার টাকা সংগ্রহ করে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে যান। পরে ওই ফার্মেসির সহযোগিতায় পরিচিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কিছু পরীক্ষা—নিরীক্ষা করিয়ে নেন। পরীক্ষার রিপোর্টগুলো নিয়ে সরকারি হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত উপ—সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।
মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘আমাকে বলা হয়, তার পরামর্শ না নিয়ে কেন বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়েছি। অন্য জায়গা থেকে রিপোর্ট নিয়ে কেন তার কাছে এসেছি, এ নিয়েও কথা শোনানো হয়। এরপর ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করেন। টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন করবেন না এবং রোগী ভালো হবে না বলেও জানান।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে রোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ভিজিট নেওয়া, দুর্ব্যবহার করা, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য রোগীদের চাপ দেওয়া এবং চিকিৎসাসেবায় অবহেলার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কুয়াকাটার বাসিন্দা উখিন চান রাখাইন বলেন, ‘আমার বোনের পা ভেঙে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি (রিয়াজ) বলেন কোনো সমস্যা হয়নি। পরে কোনোমতে পা আটকে দেন। পরবর্তীতে পায়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বরিশালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।’
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. রিয়াজ। তিনি দাবি করেন, ‘আমি তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। তিনি তার সন্তানকে নিয়ে আসার পর আমি তাকে চিকিৎসা দিয়েছি।’
কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কিশলয় সাহা বলেন, ‘আমি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। তবে বিষয়টি হাসপাতালে কর্তব্যরতদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।