
চাঁদা তোলাই যেন তার নেশা আর পেশা। দীর্ঘ দুইযুগ একই কর্মস্থলে কর্মরত থেকে দু’হাতে তুলেছেন লাখ লাখ টাকার চাঁদা। অতিষ্ঠ ছিলেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী।
গত একমাস যাবত স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে ব্যবসা করছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ব্যবসায়ীরা।
তারা জানিয়েছেন, আগৈলঝাড়া উপজেলার সদ্য বিদায়ী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদারের চাঁদাবাজিতে দীর্ঘ দুইযুগ অতিষ্ঠ ছিলেন তারা। নির্ধারিত অংকে মাসিক চাঁদা দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হতো। এমনকি বিভিন্ন স্থানে বাৎসরিক মেলায় চাঁদা তুলতেন দু’হাতে।
জানা গেছে, গতবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আগৈলঝাড়া উপজেলায় ‘মোনাই পাগলের মেলায়’ ছোট ছোট মিষ্টির দোকান থেকে অবৈধভাবে চাঁদা তোলার প্রমান মেলায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের বেছে বেছে বিভিন্ন সময় বড় অংকের জরিমানা করে তা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদারও কর্মস্থল থেকে আত্মগোপন করেন।
জানা গেছে, বরিশাল জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পদটি শূন্য হওয়ায় আগৈলঝাড়ায় পূর্বের ন্যায় সুবিধা করতে না পারায় সুকলাল সিকদার বরিশালে পাড়ি জমান। গত একমাস পূর্বে বরিশালে যোগদান করে নতুন কৌশলে চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টরা জানান, সুকলাল সিকদার আগৈলঝাড়ায় বসে যেভাবে অনৈতিক কর্মকান্ড করেছেন, তা এখানেও শুরু করতে চান। তিনি ইশারা-ইঙ্গিতে আমাদেরকে মাসে একবার করে দেখা করার জন্য বলছেন।
বরিশালের একাধীক ব্যবসায়ী জানান, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর যোগদানের পর আমাদেরকে ফোন করে তার সাথে দেখা করার জন্য বলছেন। যা এর আগে কখনো কোনো স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বলেননি।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদারের মোইল নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।