
জাতীয় দৈনিক সমকাল-এর সাবেক বরিশাল ব্যুরো প্রধান ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর সমকাল ব্যুরো অফিস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তার মৃত্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে সাংবাদিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে তার ঝুলন্ত মরাদেহ ও তার গলায় থাকা ফাসের অবস্থা দেখে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন এটা একটি পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে।যদি সে আত্নহত্যা করে তাহলে তার গলার ফাস দেওয়া সুতার গিট পিছনে থাকার কথা যেহুত সুতার গিট পাশে তাতে নেহাত একটি পরিকল্পিত হত্যা মনে করছেন তারা।তবে তার লেখা সুইসাইড নোটের সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছে না এই আত্নহত্যার এতে আরও তীব্র হচ্ছে সন্দেহ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলক চ্যাটার্জি প্রায় দুই বছর আগে দৈনিক সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকে তিনি অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন বলে জানা গেছে। ব্যুরো অফিসের একটি চাবি তার কাছে ছিল। তিনি মাঝেমধ্যে রাতে ওই অফিসে গিয়ে কিছু সময় কাটাতেন।
বর্তমানে সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক সুমন চৌধুরী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি অফিসে গিয়ে দেখতে পান, অফিসটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। পরে দরজাটি কিছুটা ফাঁক করে ভেতরে তাকিয়ে পুলক চ্যাটার্জিকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে মরদেহ ঝুলে থাকার ধরন ও গলায় থাকা ফাঁসের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের দাবি, ফাঁসের গিটের অবস্থানসহ ঘটনাস্থলের কিছু বিষয় তাদের কাছে স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না। তাদের কেউ কেউ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।