বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়াই ২০ বছর ধরে চোখের চিকিৎসা থানায় ডিউটি অফিসারকে ম্যাডাম বলায় যুবক আটক বরিশালে নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে এনে হত্যার অভিযোগ উজিরপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষাঃ কেন্দ্র সচিবসহ দুই শিক্ষক বহিষ্কার চাচার হাতুড়িপেটায় ভেঙেছে হাত, শ্রুতিলেখকে পরীক্ষা দিচ্ছেন বিথী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: কর্মবিরতির পর এবার কমপ্লিট শাটডাউন ফুয়েল কার্ডের ছবি অমিল থাকায় গ্যারেজ কর্মচারীকে ইউএনওর থাপ্পড় বরিশালের দুই বাস টার্মিনাল ইজারার নামে সড়ক থেকে কোটি টাকার চাঁদাবাজি পেট্রোল সংকট নিরসনে ইউএনওর উদ্যোগ,স্বস্তিতে এলাকাবাসী বরিশালে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্‌যাপন ডায়রিয়া নিয়ে চিন্তিত বরগুনা সাবেক কাউন্সিলর গাজী আক্তারুজ্জামান হিরুর ইন্তেকাল মুলাদীতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্নহত্যা ক্লাস চলাকালে খসে পড়ল ফ্যান-পলেস্তারা মার্কিন নৌবাহিনীর সেক্রেটারি বরখাস্ত ‘পাঠান’-কে ছাড়িয়ে শীর্ষে ‘ধুরন্ধর ২’, ৩৫ দিনে কত আয় বাড়ল গণপরিবহনের ভাড়া, আজ থেকেই কার্যকর কাউখালীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন। আদালতের নির্দেশে বাকেরগঞ্জে জমি দখল বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযান মেহেন্দিগঞ্জ ১২বছরের মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়াই ২০ বছর ধরে চোখের চিকিৎসা

এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়াই ২০ বছর ধরে চোখের চিকিৎসা

প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা এলাকায় কোনো এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়াই দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চোখের চিকিৎসা দিয়ে আসার বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন মোঃ ইব্রাহিম খলিল (৬০) নামে এক কথিত চিকিৎসক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভুরঘাটা বাজার সংলগ্ন একটি ফার্মেসিতে সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখেন ইব্রাহিম খলিল। বাকি সময় নিজ বাসা ইল্লায় বসেই রোগীদের চিকিৎসা দেন। চোখের নানা সমস্যায় দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করছেন তিনি। প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রেসক্রিপশন প্যাডে ডান পাশে ইব্রাহিম খলিলের নাম এবং বাম পাশে এফ আর হাবীবের নাম উল্লেখ থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা চিকিৎসা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও অভিযোগ, প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর প্যাডে থাকা এফ আর হাবীবের নাম ও নম্বর মার্কার দিয়ে মুছে ফেলেন ইব্রাহিম খলিল। এতে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিলের ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও বাসায় চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সেবার বাইরে যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। অথচ নিয়মিত রোগী দেখে ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে কথা বললে ইব্রাহিম খলিল বলেন, তিনি এমবিবিএস ডাক্তার নন; বাংলাদেশ স্টেট মেডিকেল থেকে প্যারামেডিকেল কোর্স করেছেন। রোগী এলে মাঝে মাঝে তার এক ‘স্যার’-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেন। ওই স্যারের নাম এফ আর হাবীব, যিনি ঢাকার একটি আই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এফ আর হাবীব বলেন, ‘তিনি মাঝে মাঝে ফোন করেন। তখন কিছু পরামর্শ দিই, তবে সব সময় নয়।’

দুই পক্ষের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা ছাড়া ফোনে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এটি প্রচলিত চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেকেই তাকে প্রকৃত চিকিৎসক মনে করে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সচেতন মহল বলছে, চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের চিকিৎসায় সামান্য ভুলও স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভুল চিকিৎসায় রোগী অন্ধত্বের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2019, All rights reserved.
Design by RaytaHost
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com