শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান

ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান

পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২০১১ সালে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান মমতা। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি রাজ্যটির প্রশাসনিক নেতৃত্বে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজ্যপালের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা আসে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার খ উপধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে সাংবিধানিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও কার্যত শেষ হয়ে গেল।

গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০০টির বেশি আসনে জয় পায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায় দলটি। দীর্ঘদিন বামফ্রন্ট ও পরে তৃণমূলের দখলে থাকা রাজ্যটিতে বিজেপির এই উত্থান ভারতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথা অনুযায়ী রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়। কেউ কেউ সাংবিধানিক জটিলতার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তবে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের পর সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। দলটির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের নেতারা ইতিমধ্যে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলেই নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। আহত হন গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা।

ঘটনার পরপরই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তবে তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে দলটি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost