বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

কলকাতায় বুলডোজার দিয়ে মাংসের দোকান ভাঙল বিজেপির কর্মীরা!

কলকাতায় বুলডোজার দিয়ে মাংসের দোকান ভাঙল বিজেপির কর্মীরা!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর কলকাতায় বিজেপির বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নিউ মার্কেট এলাকা। অভিযোগ উঠেছে, ওই মিছিল থেকে একটি মাংসের দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে তোপ দেগেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।

সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন তার পোস্টে দাবি করেছেন, পুলিশের অনুমতি নিয়েই এই বিজয় মিছিল বের করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিআরপিএফ) উপস্থিতিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে বুলডোজার এনে মাংসের দোকানটি ভাঙা হয়। তিনি একে বিজেপির ‘জয়ের উদ্‌যাপন’ হিসেবে কটাক্ষ করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তবে পুলিশ ডেরেকের অভিযোগের একটি অংশ উড়িয়ে দিয়েছে। লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, বিজয় মিছিলের অনুমতি থাকলেও তাতে বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই তৃণমূল অভিযোগ করে আসছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যতালিকায় হস্তক্ষেপ করবে এবং মাছ—মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। পাল্টা জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তখন বলেছিলেন, মাছ—মাংস ছাড়া বাঙালি থাকা অসম্ভব। কিন্তু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই নিউ মার্কেটের এই ঘটনা তৃণমূলের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ইতিমধ্যে হাওড়া, বীরভূম ও বেলেঘাটাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুই পক্ষের কর্মীদের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বহু জায়গায় তৃণমূলের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, বিজেপির কোনো কর্মী সহিংসতায় জড়িত থাকলে তাকে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন দলের রং না দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূলের একটি অংশ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে দলের বদনাম করার চেষ্টা করতে পারে।

কলকাতার এই বুলডোজার কাণ্ড এবং রাজ্যজুড়ে চলা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে নিউ মার্কেটসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost