মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব চাঁদপাশা ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জহিরুল ইসলামের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা মুখে পড়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা পাঞ্জাবি ও টুপি মাথায় এক বয়স্ক লোকের থেকে টাকা গ্রহন করে হাতে নিয়ে বনিবনা করছেন জহিরুল ইসলাম।
এ সময় মোবাইল দেখা তড়িঘড়ি করে টাকা পকেটে রেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ঘুষ দিতে বাধ্য করছেন ওই কর্মকর্তা। এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ করেন অসৌজন্যমূলক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তার দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহনের সেই অভিযোগের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠেছে।
সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, অসাধু ওই কর্মকর্তার দৌরাত্ম্যে সেবা প্রার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও দৌরাত্ম্য কমেনি জহিরুল ইসলামের। সেবা প্রত্যাশীদের দাবি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ কতৃপক্ষের। এতে প্রশাসনের উপর আস্থা ফিরে আসবে জনগণের। রহমতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানান, তহশিলদার জহিরুল ইসলাম প্রতি সপ্তাহে বিমানে ঢাকা যাতায়াতে করে অফিস করেন।
যেদিন বিমান না থাকে সেদিন স্লিপার বাস যাতায়াত করেন। জহিরুল ইসলাম এর আগে বরিশাল সদরে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বরিশাল বিএম কলেজ সংলগ্ন একটি ও ঢাকার কল্যাণপুরে একটি বহুতল বাড়ি রয়েছে এবং একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে তার। তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। চাঁদপাশা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (ছদ্মনাম) হেমায়েত উদ্দিন বলেন, আমার জামিতে ১৫০ ধারা, রেকর্ড সংশোধনের প্রতিবেদন দিতে দশ হাজার টাকা দাবি করেন তহসিলদার জহিরুল ইসলাম। আমি তিন হাজার টাকা দিয়ে এসেছি। কিন্তু বাকি টাকার জন্য দুই মাস ধরে ঘুরাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘুষ লেনদেন বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। ঘুষের গ্রহণের বিষয়ে তহশিলদার জহিরুলকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে গেছেন। তবে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভিডিওটি এনএসআই আমাকে পাঠিয়েছে এবং ফেসবুকে দেখেছি। এ বিষয়ে আমি ডিসি স্যারকে অবহিত করেছি।
বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি আমরা দেখছি। তবে আমার কাছে অভিযোগ আসলেই আমরা ব্যবস্থা বা তদন্ত শুরু করবো।