শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে সঞ্চয় করা অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়ার পর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে দোতলা কাঠের ঘরটি। আগুনের লেলিহান শিখায় রাতারাতি ছাই হয়ে যায় একটি পরিবারের আজীবনের সব স্বপ্ন ও সম্পদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে ভস্মীভূত হওয়া বাড়ির মালিক আব্দুল লতিফ রাঢ়ী পেশায় একজন এতিমখানার সেবক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ২টার দিকে হঠাৎ আগুনের তাপ আর ধোঁয়ার গন্ধে ঘুম ভাঙে তাঁদের। এ সময় তড়িঘড়ি করে পরিবারের সব সদস্য বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি, কাপড়—চোপড়, চাল—ডাল কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যে দোতলা কাঠের ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এদিকে রাতে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনাটি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে না পারলেও রাতের আঁধার কেটে গেলে দেখা যায় ঘরের সিঁধ কাটা।
স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব মাঝি বলেন, আগুনে পরিবারটির সহায়সম্বল ও মাথা গোঁজার ঠাঁই—সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। সবার ধারণা, চোর চক্র চুরি করার পরে ঘরটিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।
বাড়ির মালিক লতিফ রাঢ়ী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি দিন আনি দিন খাই। একটি এতিমখানায় বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করে যা পাই, তা—ই দিয়ে তিলে তিলে জমি, ঘর তৈরি করেছি। ঘরে যা ছিল, সবই শেষ। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
আমতলী গ্রামের ইউপি সদস্য মানিক রায় বলেন, ‘আমরা রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে তখন চুরির ঘটনাটি সামনে আসেনি। সকালে আমরা সিঁধ কাটা দেখে ধারণা করছি, চোর চুরি করার পরে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে লতিফ রাঢ়ী নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ঘরের কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।’
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষে কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।