রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় প্রকাশ্যে বসা একটি জুয়ার আসরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় কথিত মূল হোতা কুলসুম পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ
ভাটারখাল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি হিসাবে পরিচিত কুলসুম তাকে আইনের আওয়াতায় আনতে পারলে অনেকটা জুয়াড়িসহ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন হবে
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের Timesofbarisal.com ফেসবুক পেজে জুয়ার আসরের ভিডিও প্রকাশিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে বরিশাল স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ মিহিরের নেতৃত্বে জুয়ার আসর থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে কথিত মূল হোতা কুলসুম পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটারখাল এলাকায় ঈদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর পরিচালিত হয়ে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি, কুলসুমের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব জুয়ার আসরে স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা অর্থ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, “আমি তাদের ফাঁদে পড়ে কয়েক হাজার টাকা হারিয়েছি।” অপর এক ব্যবসায়ী জানান, “আমি প্রায় ৭০ হাজার টাকা হারিয়েছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর পাড় ও ভেড়িবাঁধ এলাকায় কয়েকজন নারী প্রকাশ্যে জুয়ার ফাঁদ তৈরি করে। সেখানে স্থানীয় কিছু যুবককে জুয়াড়ি সাজিয়ে পথচারী, ব্যবসায়ী এবং কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের জুয়ার খেলায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়।
এ ধরনের প্রকাশ্য জুয়ার আসর সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণরা সহজেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন উল ইসলাম জানান, জুয়ার আসর থেকে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।