সোমবার, ১৫ Jun ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেন। তবে এই দণ্ড কার্যকর করতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ নিহত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায় করে উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে আরও বলা হয়, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী আসামিরা রায় ঘোষণার তারিখ থেকে আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
এর আগে, গত ২৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
পরে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুযায়ী আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান আসামি সোহেল রানা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯—এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে, ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর দুই আসামিকেই কারাগারে পাঠানো হয়।