ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ৩নং কুলকাঠি ইউনিয়নের তৌকাঠি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হয়বৎপুর তৌকাঠি দাখিল মাদরাসা ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৫৫ বছরেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের মুখ দেখেনি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এলেও মাদরাসাটির সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অবহেলা ও অনুন্নয়নের মধ্য দিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এ মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাজারো শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করলেও সেই সাফল্যের প্রতিফলন হিসেবে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প মাদরাসাটির ভাগ্যে জোটেনি।
মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রেণিকক্ষের সংকট, পুরোনো ভবন, আধুনিক ল্যাব সুবিধার অভাব, পর্যাপ্ত আসবাবপত্র সংকট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভবনের বিভিন্ন স্থানে পানি চুইয়ে পড়া এবং মাঠের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি সবসময় উপেক্ষিত থেকেছে। বর্তমান সময়ে যখন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন, ডিজিটাল ল্যাব ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু হয়েছে, তখন হয়বৎপুর তৌকাঠি দাখিল মাদরাসা এখনও মৌলিক অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
একাধিক এলাকাবাসী বলেন, “এই মাদরাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে ভালো ফলাফল অর্জন করলেও কোনো সরকারই মাদরাসাটির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি। আমরা দ্রুত একটি নতুন একাডেমিক ভবন, সীমানা প্রাচীর, খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা চাই।”
মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদেরও দাবি, শিক্ষার মান ধরে রাখতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অত্র মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. ছাইদুর রহমান বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু একাডেমিক ভবনসহ উন্নয়নের অনেক আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু ১৭ বছরে কোন উন্নয়নই করেননি।
সহ সুপার মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো আমাকে আশ্বত করেছেন হয়বৎপুর তৌকাঠি দাখিল মাদরাসার একাডেমিক ভবনের উন্নয়ন দিয়েই ঝালকাঠি জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শুরু হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, স্বাধীনতার বছর প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়বৎপুর তৌকাঠি দাখিল মাদরাসার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক উদ্যোগই পারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে।