বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
বরিশাল বিভাগের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের যোগদান ঠেকাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, নার্স ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীরা। নিয়োগের একদিনের মাথায় তার পদায়ন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে ‘বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চিকিৎসক, বরিশাল শের—ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। তারা অবিলম্বে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বরিশাল শের—ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপ—পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক চিকিৎসক বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনাবিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই এ নিয়োগ মেনে নেব না। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।”
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি ও অভিযোগ লিখিত আকারে জানালে আমি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।”
উল্লেখ্য, গত রোববার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে পদায়ন করে। ওই আদেশের পরদিনই তার নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, নার্স ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা—কর্মচারীরা।