রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাদকসহ দুই যুবক আটক, বাঁশে ঝুলিয়ে পুলিশে দিলো গ্রামবাসী লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে মেহেন্দিগঞ্জে যুবক নিহত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার উজিরপুরে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ থানায় আসামির ঝুলন্ত মরদেহ, দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড দেশসেরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উজিরপুরের মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই দেশে ফিরুন: হাসিনাকে আসিফ নজরুল বাউফলে নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার খাসি খাওয়ানোর কথা বলে মুরগির মাংস, বিয়েবাড়িতে তুমুল সংঘর্ষ, আহত ১২ দশমিনায় স্কুলশিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার গার্মেন্টসকর্মীর আত্মহত্যা: ‘পরকীয়া নয়, পারিবারিক বিরোধই কারণ’
দশমিনায় স্কুলশিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

দশমিনায় স্কুলশিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক দীপা রানী দাস (৫১)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দীপা রানী দাসকে ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

নিহত দীপা রানী দাস মধ্য রনগোপালদী গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের স্ত্রী। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, দীপা রানী দাস দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তাদের দাবি, প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি একসময় প্রায় এক বছর উলানিয়ায় ভাড়া বাসায় আলাদাভাবে বসবাস করেন। পরে তার স্বামী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে পুনরায় বাড়িতে নিয়ে যান।

সহকর্মীরা আরও জানান, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ মীমাংসার জন্য তারা অন্তত দুবার পারিবারিকভাবে বসেছিলেন। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে দীপা রানী দাস পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পুলিশের মাধ্যমে তার স্বামীর কাছ থেকে ভবিষ্যতে আর নির্যাতন করবেন না—এ মর্মে একটি মুচলেকাও নেওয়া হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে জীবননাশের আশঙ্কায় দীপা রানী দাস থানায় ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিল।

শিক্ষকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সহকর্মীরা বলেন, তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। তাদের মতে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অন্যদিকে নিহতের স্বামী শুভ্র সূচি দাস নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব ঘটনা তিন বছর আগের। এখন সেগুলো টেনে আনার কোনো মানে হয় না। আমার স্ত্রী কেন আত্মহত্যা করেছেন, তা আমি জানি না।”

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল রহমান বলেন, “এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost