বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর বাউফলে নাসির উদ্দিন মৃধা নামে এক খামারিকে অপহরণ, নির্যাতন এবং তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পৌর বিএনপিসহ যুবদলের ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭—৮ জনকে আসামি করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী বজলুল হক বাদল মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিমেট আদালতে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
মামলার বাদী নাসির উদ্দিন দাশপাড়া ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কৃষক ও গরুর খামারি।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে আসামিরা পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে নাসির উদ্দিনকে অপহরণ করে বাউফলে নিয়ে আসে। তার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হাত—পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে তথ্য পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
বাদী নাসির উদ্দিন জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এলাকায় ফিরতে পারছেন না।
অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশ, দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ‘মামলার বাদী নাসির উদ্দিন দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থক। তাই রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমরা কেউ জড়িত না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদে তালা দেওয়া এবং পরিষদের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মামুনকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই মারধরের মামলাও দাশপাড়া বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীকে আসামি করা হয়।