
বরিশাল নগরীতে স্বর্ণের দোকানে পরিচয়, কুরআনের দোহাই দিয়ে প্রতারণা: ‘প্রেমিক’ শাকিব এখন গরাদে
২০১৮ সালে নগরীর কাঠপট্টি সড়কের আমজাদ জুয়েলার্সে স্বর্ণ কিনতে গিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রী রুমি আক্তার নিপা। এসময় কৌশলে তার মুঠোফোন নম্বর রেখে দেন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারীর ছেলে শাকিব হাওলাদার। শুরু হয় দুজনের মধ্যে কথোপকথন। এক পর্যায়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসেন শাকিব।
একদিকে ছেলের অর্থসম্পদ, অন্যদিকে চেহারাও অনেকটা নায়কের মতো; তাই তো কথা না বাড়িয়ে এ প্রস্তাবে সায় দেন কলেজ ছাত্রী রুমি আক্তার। মন দেওয়া-নেওয়ার এক পর্যায়ে শারীরিক চাহিদা পূরণের ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রেমিক শাকিব হাওলাদার। কিন্তু বাদ সাধেন প্রেমিকা। শর্ত ঠুকে দেন— কুরআন মাজিদে হাত রেখে কথা দিতে হবে বিয়ে করার। ব্যাস! যেমন কথা, তেমন কাজ। প্রেমিকা রুমির প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান প্রেমিক শাকিব হাওলাদার।
এরপর দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বিয়ে ছাড়াই চলছে শারীরিক সম্পর্ক। এই সময়ের মধ্যে দুইবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন রুমি আক্তার নিপা। প্রত্যেকবারই নষ্ট করা হয়েছে গর্ভের সন্তান। সবশেষ চলতি বছরের ১৮ জুলাই বিয়ের জন্য চাপ দিলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন শাকিব হাওলাদার। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী।
ধর্ষণের অভিযোগ এনে ২৮শে জুলাই কাউনিয়া থানায় মামলা করেন রুমি আক্তার নিপা। মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টা পরই শাকিব হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শাকিব নগরীর মুনসুর কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হাওলাদারের ছেলে। আর বাদী রুমি আক্তার নিপা নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত খান মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া। সে ওই এলাকার মৃত কামাল শেখের মেয়ে।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালে নগরীর কাঠপট্টি সড়কের আমজাদ জুয়েলার্সে স্বর্ণ কিনতে গিয়ে শাকিবের সাথে কলেজ ছাত্রী রুমি আক্তারের পরিচয় হয়। এরপর মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। ২০২১ সালে কুরআন মাজিদ ছুঁয়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিপার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় শাকিব হাওলাদার। পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে একাধিকবার বাদীকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত শাকিব। সবশেষ ২০২৪ সালে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নগরীর কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় বাসা ভাড়া করে অবৈধ মেলামেশা অব্যাহত রাখা হয়।
বাদীর অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২৪ — এই সময়ের মধ্যে দুইবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন তিনি। প্রতিবার ওষুধ খাইয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত চলতি বছরের ১৮ই জুলাই থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। উপায়ান্তর না পেয়ে ২৮শে জুলাই পরিবারের সম্মতিতে একমাত্র শাকিব হাওলাদারকে আসামি করে কাউনিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী রুমি আক্তার নিপা।
মামলা দায়েরের পরপরই রাতে শাকিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার ২৯শে জুলাই সকালে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জিত চন্দ্র নাথ।