
বরিশালের কাজিরহাট থানার লতা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে স্বামী—স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই সকালে সোনাপুর গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই ভাই জাকির হাওলাদার ও হানিফ হাওলাদারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাকির হাওলাদার কাজিরহাট বাজারে যাওয়ার পথে চর সোনাপুর এলাকার একটি পাকা সড়কে পৌঁছালে হানিফ হাওলাদার, তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম এবং আরও কয়েকজন তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় অভিযুক্তরা জাকিরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন। একপর্যায়ে জাকির প্রতিবাদ করলে রাজিয়া বেগম তাকে চেপে ধরেন এবং হানিফ হাওলাদার তার সঙ্গে থাকা একটি ধারালো দা দিয়ে জাকিরের মাথায় কোপ দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা আহত জাকিরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ঘটনার পর জাকিরের বোন জাহানারা বেগম কাজিরহাট থানায় এসে হানিফ হাওলাদার, রাজিয়া বেগমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনিস গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই সকালে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রাজিয়া বেগমকে চর সোনাপুর এলাকার জয়নাল বেপারীর মুদি দোকানের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বাড়ির বালিশের নিচ থেকে রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করে জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এরপর একই দিন সকালে লতা ইউনিয়নের আলী খাঁর হাট বাজার এলাকা থেকে রাজিয়ার স্বামী হানিফ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।