
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার চেয়ারম্যান গলিতে নিয়মিত বসছে লাখ/লাখ টাকার জুয়ার আসর। প্রতিদিন রাত সাড়ে ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই জুয়ার বোর্ডে সর্বস্ব হারাচ্ছেন বহু মানুষ,যার প্রভাবে পরিবারে নেমে এসেছে চরম অশান্তি এবং এলাকায় চুরি-ছিনতাই বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,চেয়ারম্যান গলি এবং এর আশপাশের কয়েকটি সুবিধাজনক স্থানে আনোয়ার ও সিদ্দিক নামে দুই ব্যক্তি প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করেন। আবার কোন কোন দিন রাত আটটা থেকে বারোটা পর্যন্ত জুয়ার বোর্ড বসানো হয়। এখানে প্রতিদিন বরিশাল সদরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ১০ থেকে ২০ জন জুয়াড়ি জড়ো হন। তারা ‘তিন তাস’ ‘রামি’পোচ’ একাধিক ধরনের খেলায় অংশ নিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লেনদেন করেন।
জোয়ারীদের সাথে রয়েছে কিছু নেশাখোর ভুঁই ফোর ভুয়া নামধারী মিডিয়া কর্মী। অনুসন্ধানে জানা গেছে তারা এখনো মিডিয়া কর্মীই না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত অডিও ও ভিডিও ফুটেজে এই অবৈধ জুয়ার আসরের চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।
জুয়ায় সর্বস্ব হারানো কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,জুয়ার আসরে অংশ নিয়ে তারা নিজেদের জমানো টাকা এবং পরিবারের স্বর্ণালংকার পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেকে সুদে টাকা এনে জুয়া খেলে এখন ঋণের জালে আবদ্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জুয়াড়ি বলেন “আমরা এখন পথের ফকির। কাউকে বলতেও পারছি না,আবার এই পরিস্থিতি সহ্যও করতে পারছি না। এমন নিঃস্ব হয়ে গেছি যে এখন আত্মহত্যা বা অপরাধমূলক কাজ ছাড়া আর কোনো পথ দেখতে পাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন,তারা মাঝে মাঝে কেবল শখের বশে কল ব্রিজ খেলেন,কোনো টাকার খেলা হয় না। তবে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত আসর বসানোর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। অন্যদিকে আরেক পরিচালনা চক্রের সদস্য সিদ্দিকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান,বিষয়টি পূর্বে আমাদের জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম। মাদক ও জুয়ার বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। খোঁজ নিয়ে দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নগরীর সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল মনে করছেন,দ্রুত এই জুয়ার আসর বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এলাকার সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।