বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে পদায়ন করা হয়েছে। তাঁর এ পদায়নকে কেন্দ্র করে কলেজের বিসিএস শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষকের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ২০০৭ সালে ১০ শতাংশ কোটায় সরাসরি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর আগে বা একই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বর্তমানে বিএম কলেজে কর্মরত রয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি। এ অবস্থায় তাঁকে উপাধ্যক্ষ পদে পদায়নের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
এদিকে, তাঁর চাকরির ক্যাডার পরিচয় ও পদায়ন-সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীদের দাবি, একপর্যায়ে তিনি মন্ত্রণালয়ে নিজেকে ১৬তম বিসিএসের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে আবেদন করেছিলেন। তবে এ দাবির সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলেও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন।
বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, চলতি বছরের মাস্টার্সের ভাইভা পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও তাকে ভাইভার নম্বর দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই শিক্ষার্থী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নথি ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, মধুখালীর সরকারি আইনউদ্দীন কলেজে কর্মরত থাকার সময় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তবে এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়নের পর কলেজের কয়েকজন বিসিএস শিক্ষক গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদায়নটি পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ, পদায়ন, পরীক্ষার নথি ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন