, , ,
শিরোনাম
চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয়ে দিশেহারা কাউখালীর মধ্যবিত্ত—নিম্নবিত্ত পরিবার উজিরপুরে পৌর কাউন্সিল সুব্রতর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ বিএম কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে ফ্যাসিস্টের দোসর অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পদায়ন, শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বরিশালে চেয়ারম্যান গলিতে লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর,নিঃস্ব বহু পরিবার প্রেমের সম্পর্কে পালিয়ে বিয়ে, নয় মাসের মধ্যে লাশ হলো কিশোরী লাবনী কলেজ অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তার অভিযোগ হিজলায় পুলিশের অভিযানে ৯ মাদকসেবী গ্রেপ্তার সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থেকেও অপপ্রচারের শিকার পুলিশ কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ খালেদ বৃষ্টি বেড়ে তাপমাত্রা কমতে পারে
চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয়ে দিশেহারা কাউখালীর মধ্যবিত্ত—নিম্নবিত্ত পরিবার

চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয়ে দিশেহারা কাউখালীর মধ্যবিত্ত—নিম্নবিত্ত পরিবার

Reporter
প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

পিরোজপুরের কাউখালীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের সঙ্গে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ। পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার পেছনে। ফলে চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট আয় দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, অন্যদিকে চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা—নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ—সব মিলিয়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে খাবারের তালিকা ছোট করে ফেলছে। কেউ কেউ পরিবারের প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারও নিয়মিত কিনতে পারছেন না।

কাউখালী সদর এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, “সংসারে কয়েকজনের নিয়মিত ওষুধ লাগে। মাসে ওষুধ কিনতেই বেশ কিছু টাকা চলে যায়। এরপর বাজার খরচ, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ আছে। সবকিছু মিলিয়ে মাসের শেষ দিকে হাতে টাকা থাকে না। আগে যে আয়ে সংসার মোটামুটি চলত, এখন একই আয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিম্নআয়ের শ্রমজীবী আবুল বাশার বলেন, “দিনে কাজ করলে সংসার চলে, কাজ না থাকলে সমস্যা হয়। এর মধ্যে পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে ওষুধ কিনতে গিয়ে অনেক সময় ধার করতে হয়। চিকিৎসা করাব, নাকি পরিবারের খাবার কিনব—এমন চিন্তায় পড়তে হয়। মাছ—মাংস তো দূরের কথা, অনেক সময় ভালোভাবে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সমাজের একটি অংশ সরকারি চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ—সুবিধার আওতায় থাকলেও অধিকাংশ মানুষই সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। তাদের আয় বাড়ছে না, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত পরিবারের সদস্য থাকলে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, পরিবারের আয়ের একটি বড় অংশ চিকিৎসায় ব্যয় হওয়ায় সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণেও সংকট দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার কিনতে না পারায় নিম্নআয়ের অনেক পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের পুষ্টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওষুধের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ওষুধের মূল্যতালিকা, অতিরিক্ত দাম আদায় ও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা—নিরীক্ষার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি চান তারা।

কাউখালীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রত্যাশা সরকার বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসবে। এতে সীমিত আয়ের মানুষ অন্তত চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়ে পরিবারের মৌলিক খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost