, , ,
শিরোনাম
কাউখালীতে ৪৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা রুখে দিলেন এলাকাবাসী চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সের রোগী নিহত চট্টগ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা বলছে পুলিশ বরিশালে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে শ্রমিক লীগ নেতা আটক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যা নাকি হত্যা—নানা প্রশ্ন তীর ধসে মেঘনায় নিখোঁজ: যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হদিস নেই বিজিবি সদস্যের গৌরনদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল চালক নিহত বরিশালে যুবলীগ-নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল পণ্ড, আটক ৬ নলছিটিতে ইভটিজিং, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভা
কাউখালীতে ৪৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

কাউখালীতে ৪৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

Reporter
প্রতিবেদক : রিয়াদ মাহামুদ সিকদার
প্রকাশিত : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকটের মুখে পড়েছে। উপজেলার ৪৪ টি সরকারি বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম।

অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, সমকক্ষ পদমর্যাদার হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানছেন না অন্য সহকারী শিক্ষকরা। ফলে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেকটা ভেঙে পড়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক বণ্টনেও ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকলেও আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষক সংকট। এতে শিক্ষক—শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত অনুপাত বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরকারি সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষায়। অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায় শেষ করেও সাবলীলভাবে রিডিং পড়তে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ বাড়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নূরানী মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৫ এর নিচে শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের জব্দকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬ জন, অথচ শিক্ষক রয়েছে ৪ জন।

কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমান বলেন, অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক একই পদের হওয়ায় অনেক শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা গুরুত্ব দিতে চান না। তবে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার মানও দ্রুত উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা মোঃ বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলমান। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদসংক্রান্ত সংকটের সমাধান হবে এবং বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost