
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বলাইকাঠী রাঙ্গামাটি নদীর তীরবর্তী চরে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় স্থানীয়দের হাতে একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) ও একটি ট্রলার আটক হওয়ার পর পুলিশের হেফাজত থেকে সেগুলো পালিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বলাইকাঠী রাঙ্গামাটি নদীর তীরবর্তী চরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাটি কাটার সময় স্থানীয়রা একটি ভেকু ও একটি ট্রলার আটক করে বিষয়টি বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন।
পরে ইউএনওর নির্দেশে চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোরাহ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক করা ভেকু ও ট্রলারটি নিজের হেফাজতে নেন বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওই এসআইকে ‘ম্যানেজ’ করে আটক করা ভেকু ও ট্রলার ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসআইয়ের উপস্থিতিতেই তার চোখের সামনে দিয়ে ভেকু ও ট্রলারটি নিয়ে যাওয়া হয়।তবে চলে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে এস আই সোহরাব বলেন আসলে ভেকুটি নদীর ভিতরে থাকার আমরা পল্টুনে উঠতে পারি নাই।সেই সুযোগে ভেকুটি চালিয়ে নিয়ে যায়।পরে আমরা তারা করে ভেকু ও ট্রলার ও সেখানে থাকা চালকদের নিজ হেফাজতে নিয়েছি।
পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক করা ভেকু ও ট্রলার না পেয়ে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট এসআইকে পুনরায় আটকের নির্দেশ দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উক্ত বিষয় জানতে চাইলে বাখেরগঞ্জ সহকারী ভূমি কমিশনার অভ্র জ্যোতি বড়াল জানান স্থানীয়রা অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় একটা ভেকু ও ট্রলার জব্দ করে নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে জানালে আমি ঘটনা স্থানে গিয়ে ভেকু ও ট্রলার চলে যায়।আমি আবার পুলিশকে পুনরায় জব্দ করার নির্দেশ দেই।তাদেরকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অবৈধভাবে নদীর চর থেকে মাটি কাটার অভিযোগে আটক করা সরঞ্জাম কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে গেল এবং কার নির্দেশে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হলো—এ নিয়ে চলছে আলোচনা।