
ভোলার তজুমদ্দিনে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত দুই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তজুমদ্দিন উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও জনবল সংকটে হিমশিম খাচ্ছে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
চিকিৎসকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।
মেঘনা নদীবেষ্টিত এ উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের পাশাপাশি চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। তবে চরাঞ্চল থেকে জরুরি রোগী নদীপথে আনার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের। সরকারি বরাদ্দে থাকা নৌ—অ্যাম্বুলেন্সটিও বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৩১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র আটজন। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসক ছুটিতে রয়েছেন। হাসপাতালটিতে ফার্মাসিস্টের দুটি পদ, হিসাবরক্ষকের একটি পদ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার), ল্যাব টেকনোলজিস্ট, স্টোরকিপারসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের তিনটি পদই শূন্য। স্বাস্থ্য পরিদর্শকের দুটি পদও শূন্য রয়েছে। ৩২টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের মধ্যে আটটি শূন্য।
চারটি অফিস সহায়কের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন একজন। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। এছাড়া বার্বুচির দুটি পদই শূন্য এবং তিনটি ওয়ার্ড বয়ের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মতে, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকলে হাসপাতাল চত্বরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
চিকিৎসা নিতে আসা চাঁদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার দুই বছরের ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হাসপাতালে শিশু কনসালটেন্ট না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর, বরিশাল কিংবা ঢাকায় যেতে হয়।’
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দিব্যেন্দু রায় রাজীব বলেন, ‘বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে যে সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন তা দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। আরও চিকিৎসক পদায়ন করা হলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও ভালোভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। হাসপাতালটিতে কনসালটেন্টের চারটি পদ থাকলেও সেগুলোও শূন্য রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ভোলা সদর হাসপাতাল কিংবা বরিশাল ও ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইউনিটও কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে হাসপাতালের দেয়ালে রোগীদের সরবরাহের জন্য
বিভিন্ন ওষুধের তালিকা টানানো থাকলেও তালিকাভুক্ত সব ওষুধ নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ। এতে চিকিৎসক, জনবল ও ওষুধ তিন সংকটে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নাজুক হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব কবির বলেন, ‘ডেঙ্গুর সব পরীক্ষা—নিরীক্ষা হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত খরচে করা হচ্ছে। বর্তমানে নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু নিয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। জনবলের যে সংকট রয়েছে, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আশা করি দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একজন গাইনি কনসালটেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে বর্তমানে যে ওষুধের সংকট রয়েছে, তা এ সপ্তাহের মধ্যে কেটে যাবে।’