
বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল এবং এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দৈনিক আগামীর সময়ে এ—সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিসিসি কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
শুক্রবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রকে এক বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
বিসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহের ফলে নগরীর বিভিন্ন জলাশয় অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি কৃষিজমিরও ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন নেওয়ার কারণে কোথাও কোথাও রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। আবার কিছু এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কার্যাদেশপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার ভেতরে বালু সরবরাহে ব্যবহৃত সব পাইপলাইন দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রেস সচিব সাকলাইন মোস্তাক জানান, পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিসিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে নগরীতে পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জলাশয় ও কৃষিজমি রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো।