, , ,
শিরোনাম
ভাণ্ডারিয়ায় আল-গায়যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ফাজিল পরীক্ষার কেন্দ্র স্থগিত কাউখালীতে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সমাবেশ, চার কিশোরী পেলেন লক্ষাধিক টাকার চেক উজিরপুরে বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে অর্থায়নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নল‌ছি‌টি‌তে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত ১০৭ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা নতুন করে ইরানে দফায় দফায় হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সালিশের পর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার কারামুক্ত জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
তালা ঝুলছে বাউফল পাঠাগারে, নষ্ট হচ্ছে বই-আসবাবপত্র

তালা ঝুলছে বাউফল পাঠাগারে, নষ্ট হচ্ছে বই-আসবাবপত্র

Reporter
প্রতিবেদক : বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত : রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে পাবলিক মাঠসংলগ্ন সাধারণ পাঠাগারটি উদ্বোধনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় পাঠাগারের বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাউফল উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এ সাধারণ পাঠাগারটি নির্মাণ করা হয়।

অন্যদিকে পাঠাগারের সামনের জায়গা দখল করে অটোরিকশা, আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। রাতে পাঠাগারের ছাদে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়াজ উদ্দিন মিয়ার সময়ে বাউফল পাবলিক মাঠের পূর্ব পাশে সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসময় প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বাউফল সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল সাত্তার। পরে দায়িত্ব পালন করেন কেশবপুর কলেজের সাবেক অধ্যাপক এ কে এম হুমায়ুন কবির।

ওই সময় পাঠাগারটি পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা কমিটি ছিল। সদস্যদের ভোটে এ কমিটি গঠন করা হতো। পাঠাগারটি প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকত। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ সেখানে বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসতেন।

সময়ের আবর্তে পাঠাগারটির ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নতুন ভবন নির্মাণ করে পাঠাগারটি পুনরায় নির্মাণের দাবি ওঠে।

স্থানীয় তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থী ও কয়েকজন সাংবাদিকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার পাঠাগারের জন্য আরেকটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পাঠাগারটি নির্মাণের পর কয়েক বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পরে ছিল।

দুই বছর আগে পাঠাগার ভবনটির উদ্বোধন করা হলেও পরিচালনা কমিটি ও কেয়ারটেকার না থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না। উদ্বোধনের পর থেকেই ভবনের দরজায় তালা ঝুলছে। তাই বইপ্রেমীদের মধ্যে পাঠাগার চালু নিয়ে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, পাঠাগারের ভেতরে বই ও আসবাবপত্র পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের সামনের জায়গায় সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা রাখা হচ্ছে। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় পাঠাগারের ছাদে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাঠাগার শুধু বই পড়ার স্থান নয়, এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মননশীলতা বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। পাঠাগারটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও জ্ঞানমূলক বই, পত্রিকা ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব হতো।

পাঠাগারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, পাঠাগারটি চালু হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ বই পড়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও এটি চালু না হওয়ায় বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত পাঠাগারটি চালু করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এই সপ্তাহের মধ্যে পাঠাগারটি পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost