
ঝাড়ফুঁক ও তেলপড়া নিতে ভিড়, প্রতারণার অভিযোগ স্থানীয়দের; তদন্তের কথা জানিয়েছে প্রশাসন
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি বসতঘরের মেঝেতে মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি কবর আকৃতির স্থাপনা তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কবর দুটি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর বলে দাবি করছেন বাড়ির লোকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে ঝাড়ফুঁক, তেলপড়া ও পানি পড়া নিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে। তবে ঘটনাটিকে অলৌকিক দাবি করে মানুষের সমাগম ঘটানো এবং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বেপারির ছেলে সজীব বেপারি প্রায় ছয় মাস ধরে ধ্যানে বসে মানুষের রোগ নির্ণয় ও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। প্রতিদিন তাঁর কাছে ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিবারের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টার দিকে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর আকৃতির স্থাপনা দেখা যায়। একই দিন রাত ১২টার দিকে প্রথমটির পাশে আরও একটি কবর আকৃতির স্থাপনা দেখা যায়। অর্থাৎ প্রায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি কবর আকৃতির স্থাপনা তৈরি হওয়ার দাবি করা হচ্ছে।
সজীব বেপারি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থাপনা দুটি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শত শত উৎসুক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। অনেকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তির আশায় তেল, পানি ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে সেখানে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ঝাড়ফুঁক ও তেলপড়া নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সজীব বেপারির বসতঘরের মেঝেতে পাশাপাশি দুটি কবরের মতো আকৃতি রয়েছে। সেগুলো নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে। পশ্চিম পাশের স্থাপনাটি প্রায় দুই হাত এবং পূর্ব পাশেরটি প্রায় তিন হাত লম্বা। পাশে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে জায়গাটি ঘিরে রাখা হয়েছে।
সজীবের মা শিউলী বেগম বলেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হননি। ছয় মাস আগে স্বপ্নে নির্দেশনা পাওয়ার পর বাড়িতে আসন স্থাপন করে ধ্যানে বসেন। এরপর নিজে সুস্থ হন এবং বিভিন্ন মানুষকে রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সজীব বেপারি আগে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
এ বিষয়ে সজীব বেপারি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ধ্যানে বসে মানুষের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। গত ২৬ অক্টোবর সকালে তাঁর ঘরের মেঝেতে প্রথম কবরটি এবং একই দিন রাতে দ্বিতীয় কবরটি দেখা যায়। তাঁর দাবি, কবর দুটি দুই সুফি সাধকের।
তবে অলৌকিক কবরের প্রচার চালিয়ে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো নজির নেই। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো শুনেছেন বলে তাঁর জানা নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজখবর নেওয়া হবে। তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।