বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
স্বামীর অধিকার পেতে শশুর বাড়িতে এসে শাশুড়ি ও ননদের হামলার শিকার হয়ে গুরুত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হনুফা বেগম (৩৩) নামের এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হনুফা বেগম জানিয়েছেন, আট বছর পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের মো. ইসতিয়াক উদ্দিনের ছেলে নুরুন্নবির সাথে তার (হনুফা) পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অতঃপর উভয়ের সম্মতিতে তারা বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস করেন।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নের নয়াখালী গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে হনুফা বেগম আরও বলেন, বিয়ের কয়েকমাস পর স্বামী নুরুন্নবি কর্মের সুবাদে মালয়েশিয়া চলে যায়। সেখানে অনেক কষ্টে দিনযাপনকালে আমি তাকে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করি। পরবর্তীতে স্বামী নুরুন্নবির পরামর্শে আমিও সৌদি আরব চলে যাই। আট বছর আমি সৌদি আরবে থাকাকালীন স্বামী ও তার বাবাকে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা দিয়েছি।
হনুফা বেগম বলেন, গত কয়েক মাস আগে আমি দেশে এসে জানতে পারি আমার স্বামী নুরুন্নবি আমার অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে আবার মালয়েশিয়া চলে গেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত এক সপ্তাহ ধরে স্বামীর অধিকার পেতে আমি নুরুন্নবিদের বাড়িতে অবস্থান করছি।
অভিযোগ করে হনুফা বেগম বলেন, শারিরিকভাবে আমি অসুস্থ থাকায় গৌরনদী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সোমবার (১৮ মে) বিকেলে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার সাথে সাথে আমার শশুরের নির্দেশে শাশুড়ি কইতোরি বেগম ও ননদ তানিয়া আক্তার আমাকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কইতোরি ও ননদ তানিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।