সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দুটি দূরপাল্লার বাস কাউন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট)। তবে অভিযানের সময়ই বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ বাস ব্যবসা পরিচালনা ও মাসিক মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক কাউন্টার ম্যানেজার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দূরপাল্লার বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, বরিশাল-ঢাকা রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৫৯০ টাকা হলেও কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
এ সময় ‘হানিফ পরিবহন’-এর কাউন্টার ম্যানেজার আহম্মদ খান যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১১০ টাকা করে ভাড়া আদায় করায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযোগে ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহন’-এর কাউন্টার ম্যানেজার মোহাম্মদ আনিসুর রহমানকেও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে জরিমানা কার্যক্রম চলাকালেই পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। গোল্ডেন লাইন পরিবহনের ম্যানেজার আনিসুর রহমান মোবাইল কোর্ট টিমের সঙ্গে থাকা বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ সাহার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কর্মকর্তার নিজেরই সাতটি যাত্রীবাহী বাস রয়েছে, যা বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে তিনি বাস ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাসগুলোর বিরুদ্ধে কখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না এবং তিনি বিভিন্ন পরিবহন মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা আদায় করেন।
আনিসুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সৌরভ সাহার মালিকানাধীন বাসগুলো ‘হাওলাদার’ ব্যানারে মহাসড়কে চলাচল করে থাকে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের সামনেই এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় সেখানে উপস্থিত যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ সাহার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।তার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযান শেষে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে মোবাইল কোর্ট টিম নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড ত্যাগ করে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান চলাচল সচল আছে।
এদিকে বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, সেদিকে নজর রাখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।