বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন শিশির মুন্নাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন শিশির মুন্নাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, কাতারে সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শিশির মুন্না ও তার সহযোগীরা এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১১ লাখ ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে তারা ভুক্তভোগীকে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহ করেন। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন তারা।
এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাসহ একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির ওয়ারী বিভাগের একটি দল গোপন সংবাদের মাধ্যমে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে মতিঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় শিশির মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া শিশির মুন্না সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এ দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি নির্বাচনি প্রচারণার ভিডিও তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক (প্রমোশনাল) কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসা ও নকল বিমান টিকিট সরবরাহের মাধ্যমে তিনি প্রতারণা করতেন। এছাড়া ব্যবসায়িক বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিশির মুন্না কাতারে চলে যান। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশে ফিরে এসে পুনরায় প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও মুলতবি রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে ডিএমপির এ অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গ্রেফতার শিশির মুন্না ভুক্তভোগীদের বর্তমান এমপি—মন্ত্রীদের সঙ্গে নিজের সখ্যতার কথাও শোনাতেন। প্রমাণস্বরূপ ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায়ও ডাকতেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রতারণা চক্রে আরও ৪—৫ জন যুক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে শিশির মুন্নার বোনও রয়েছেন; যিনি দেশের বাইরে অবস্থান করে প্রতারণা কাজে সহায়তা করেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।