মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
অতিরিক্ত অটোরিকশা ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত আন্দোলনে কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিমের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে প্রায় শতাধিক ব্যাটারিচালিত থ্রি—হুইলার অটোরিকশা আটক করে কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি ঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন রুটে অটোরিকশার ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, সেখানে বর্তমানে ১০ টাকা এবং ১০ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন সাধারণ শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পরে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আলোচনা চলাকালে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম, যিনি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নন, আন্দোলনস্থলে এসে অটোরিকশা চালকদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং চলমান কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ করেন।
তাদের দাবি, আন্দোলনের সমন্বয়কারী জিয়াউর রহমান নাইমের সঙ্গে তাসনিমের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনায় নাইম শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন এবং তার পায়ে আঘাত লাগে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার আগেই এবং আন্দোলনকারীদের সম্মতি ছাড়াই আটক করা অটোরিকশাগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়, যা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ব্যাহত করেছে।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আবির সিকদার বলেন, “আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আগের ভাড়া পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না।”
আরেক শিক্ষার্থী লাবণ্য রহমান বলেন, “প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কলেজে আসা—যাওয়া করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান দেখানো।”
অটোরিকশা চালক আব্দুল মালেক বলেন, “জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রাংশ ও দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে। সে কারণেই অনেক চালক বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান হলে আমরা তা মেনে চলব।”
এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি প্রথমবার নয়। এর আগে গত ২২ জুন রাতে বিএম কলেজের একটি ছাত্রাবাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছিল বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিমের বিরুদ্ধে। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এনামুল হাসান তাসনিমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।