সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২ বছর ধরে বরিশালে কর্মরত থাকাকালীন ওসি মিজানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিরীহ মানুষকে জিম্মি করতেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
ওসি মিজানের এই লাগামহীন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা চুপ করে থাকেননি। তার বিরুদ্ধে পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পর্যায়ে লিখিত ও মৌখিক অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে। একাধিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অবশেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
ওসি মিজানের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বরিশালের বিভিন্ন মহলে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন:
তিনি থানাকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছিলেন। কোনো সাধারণ মানুষ ওনার কাছে গিয়ে নিস্তার পেত না। এই বদলির মাধ্যমে প্রমাণ হলো, আইন সবার জন্য সমান। আমরা এখন শান্তিতে ব্যবসা—বাণিজ্য করতে পারব।”
পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ পুলিশে কোনো অপরাধী বা দুর্নীতিবাজের স্থান নেই। জনগণের সেবক হয়ে যারা জিম্মি করার রাজনীতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হবে। ওসি মিজানের এই শাস্তিমূলক বদলি তারই একটি অংশ। একই সাথে তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের বিষয়েও অভ্যন্তরীণ তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।