, , ,
শিরোনাম
বাউফলে বিষক্রিয়ায় গর্ভবতী মহিষের মৃত্যু, ঘাসে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, সহযোগী হাসপাতালে বরিশালে বাসচাপায় প্রাণ গেল শিক্ষকের তরুণীকে কুপ্রস্তাব, ইউপি সদস্যকে পুলিশে দিল জনতা মোবাইল কিনে বাবার ভয়ে মসজিদে ঘুম, চুরির অপবাদে কিশোরকে নির্যাতন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৪ প্রকৌশলীকে ঘিরে প্রশ্ন বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন কাউখালীতে ৫ ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে: প্রশাসনিক অচলাবস্থায় স্থবির সেবা বামনায় পুলিশের অভিযানে ১৩ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ কাউখালীতে বিশেষ অভিযানে ৬৯টি শর্টগানের কার্তুজ, ওয়াকিটকি ও ভুয়া পুলিশ আইডিসহ যুবক গ্রেপ্তার
পাথরঘাটায় জেলের ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে নৌ পুলিশের চাঁদা গ্রহণ

পাথরঘাটায় জেলের ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে নৌ পুলিশের চাঁদা গ্রহণ

Reporter
প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে জেলের ছদ্মবেশে যাওয়া এক অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাছ থেকে চাঁদা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা—সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাড়ানি খাল দিয়ে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডি ট্রলার, ছোট জাহাজ ও জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ ছিল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে গোপন অনুসন্ধান চালান।

অনুসন্ধানকালে তিনি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. কবিরের সঙ্গে জেলের পরিচয়ে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে মুঠোফোনে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকাশে কিছু টাকা পাঠানোর পর তা কম হয়েছে জানিয়ে আরও টাকা নিয়ে সরাসরি দেখা করতে বলা হয়।

পরদিন জেলের ছদ্মবেশে সাংবাদিক চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে এএসআই কবির তাকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে সাংবাদিকের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করে নিজ হাতে গুনে নেন তিনি। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুসন্ধানের সময় এএসআই কবিরের সঙ্গে কথোপকথনে আদায় করা অর্থের ভাগ—বণ্টন সম্পর্কেও বিভিন্ন বক্তব্য উঠে আসে। এ সময় তিনি দাবি করেন, আদায় করা টাকার একটি অংশ ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও দিতে হয়।

ছদ্মবেশী সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ বলেন, “জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছিলেন যে নৌ—পুলিশ তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আমি জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে নামি। এএসআই কবির হোসেন সরাসরি টাকা দাবি করেন এবং বিকাশে টাকা নেওয়ার পর বাকি টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলেন। টাকা না দিলে নদীতে ট্রলার চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।”

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে গোপন ক্যামেরার ভিডিও দেখানোর পর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অপর এক সদস্য প্রতিবেদকের হাত থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী (গজ গভীর) মিয়া বলেন, “এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে এএসআই মো. কবির মুঠোফোনে বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না।

বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, “জেলেদের হয়রানির অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করা হবে।

বরিশাল নৌ পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost