
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্ব রোড এলাকায় একটি মসজিদের ঠিক উল্টো পাশে ‘ইয়াকুব ফার্মেসী’ ও ‘সাজ ট্রেডার্স’ নামক দোকানে চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত রেকটিফাইড স্পিরিট মাদক হিসেবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে প্রকাশ্যে স্পিরিট কেনাবেচার এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালে ওই স্থানে অভিযান চালিয়েছিল র্যাব—৮। সে সময় ৩৫ বোতল রেকটিফাইড স্পিরিট এবং মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার ৭১০ টাকাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃতরা ছিলেন নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিখানা এলাকার মৃত ডা. ইয়াকুব আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪৭), একই এলাকার মৃত জগদীশ দাসের ছেলে নাথু দাস (৩৫) এবং উজিরপুর উপজেলার নারীকেলী এলাকার সুকলাল মন্ডলের ছেলে গোপাল মন্ডল (২৮)। ওই ঘটনার পরপরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম পুনরায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স করিয়ে নেন। এরপর থেকে ওই দুটি দোকানে আগের মতোই ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে স্পিরিট এনে মাদক হিসেবে বিক্রি শুরু করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মসজিদের সামনে বা আশেপাশে কোনো ধরনের মাদকের ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত এই দোকানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক তানভির রহমান জানান, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে এবং নিয়মবহির্ভূত কিছু পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”