
বরিশালের এয়ারপোর্ট থানার একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা ও লাশ গুম মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)—৮, বরিশাল।
র্যাব—৮ সূত্রে জানা যায়, ২৯ জুলাই বিকেলে র্যাব—৮ এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নথুল্লাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এয়ারপোর্ট থানার আলোচিত ক্লুলেস হত্যা ও লাশ গুম মামলার অভিযুক্ত মো. মুন্না হাওলাদারকে (৩২) গ্রেফতার করে। তিনি বরিশাল জেলার এয়ারপোর্ট থানার ডেফুলিয়া এলাকার শওকত আলী হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাজমুল হোসেন (১৯) গত ১৩ জুন সকাল ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। ওইদিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সর্বশেষ তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরবর্তীতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে নিহতের বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর দুই দিন পর, ১৫ জুন সকালে কোতোয়ালী থানার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া (কালিজিরা) এলাকার তেমাথা মুন্সিবাড়ির পোলের নিচের খাল থেকে বস্তাবন্দী একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের বাবা লাশটি তার ছেলে নাজমুল হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নাজমুলকে অটোরিকশাসহ অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত অটোরিকশা ও আইফোন ৮ প্লাস মোবাইল ফোন দখলে নিয়ে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে মুন্না হাওলাদারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতারের জন্য র্যাব—৮ বরাবর অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মুন্না হাওলাদারকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।