, , ,
শিরোনাম
মুলাদীতে ৫ম শ্রেণীর শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হুমকির মুখে অসহায় পরিবার বরিশাল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহেন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত-১; আহত ৮ উজিরপুরে সড়কের বেহাল দশা, সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর অবরোধ মেহেন্দিগঞ্জে গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী রাজিব গ্রেপ্তার বিমানবন্দর থেকে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ডন কাউখালীতে মাদক—চাঁদাবাজি—সন্ত্রাস প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিং সভা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে পাহারায় থাকা পাঁচ কুকুর অচেতন করে গরু চুরি ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা হাটে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, দেখলেন রপ্তানির সম্ভাবনা
১১ ইউনিয়নের নাগরিক সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

১১ ইউনিয়নের নাগরিক সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

Reporter
প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো সেবাগ্রহীতা। এ পরিস্থিতির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পালের কিছু সিদ্ধান্তকে দায়ী করে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পরিষদের সচিবগণ।

অভিযোগে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন—শৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে তারা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। চেয়ারম্যানদের দাবি, তাদের কাউকেই দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়নি এবং তারা স্বেচ্ছায় কারো কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেননি।

উপজেলার চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি, গারুড়িয়া, ভরপাশা, রঙ্গশ্রী ও পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, সভায় আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য, পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে পরিষদের সচিবদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চেয়ারম্যানদের পরিষদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরেছেন।

কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদার বলেন, সারাদেশে বহু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হলেও কোথাও প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যদি বাকেরগঞ্জে প্রশাসক নিয়োগের গেজেট হয়ে থাকে, সেটি আমাদের দেখানো হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেব। কিন্তু মাসিক আইন—শৃঙ্খলা সভায় আমন্ত্রণ না দিয়ে আমাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আবুল বাশার বলেন, গত ৪ আগস্ট ইউএনও তাদের কার্যালয়ে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে এবং প্রশাসক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার কথা বলেন। তবে তারা এতে সম্মত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার মনগড়া সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যানদের পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। পরিষদে নতুন কোন নির্বাচিত চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম সাবেক চেয়ারম্যানদেরই করার কথা। তবে ইউএনও বিশেষ উদ্দেশ্য ও নিজের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে পরিষদে প্রশাসক নিয়োগে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অপরদিকে চেয়ারম্যানদের সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। দাড়িয়াল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাদিজা বেগম জানিয়েছেন, তিনি তিন দিন ধরে ওয়ারিশ সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও সেবা পাননি। একাধিক চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেন, তাদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করেননি এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাসিক সভায় আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নাজিরের। তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। প্রশাসক নিয়োগের গেজেট সংক্রান্ত প্রশ্নের তিনি সরাসরি কোন জবাব দেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারই ভালো বলতে পারবেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost