, , ,
শিরোনাম
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুকের দাবিতে মামলা বিসিসির উপসহকারী প্রকৌশলী কারাগারে হাতের ভেতরে কাঁচের টুকরা রেখেই সেলাই, চিকিৎসক বললেন ‘স্যরি’ অনলাইন ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, ল্যাপটপ-কম্পিউটারসহ গ্রেফতার ২ ক্ষুব্ধ ভোটারের কড়া জবাব: যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প যুগের অবসানের সূচনা ৮ পিস্তলের ভিডিও ছড়িয়ে যুবকের হুমকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ মুলাদীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু মেহেন্দিগঞ্জে চার দিন পর নিখোঁজ তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার নলছিটিতে দুমাউসের উদ্যোগে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে গাভী বিতরণ
বরিশালে পাস করতে পারেনি ৩১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী

বরিশালে পাস করতে পারেনি ৩১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী

Reporter
প্রতিবেদক : বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ—৫ দুটিই কমেছে। এ বছর পাসের চেয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বোর্ডের অধীন ১১টি কলেজের কোনও শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। তবে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজে।

এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ—৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন। বোর্ডের অধীন বিভাগের ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

বিভাগভিত্তিক ফলে বিজ্ঞানে ১১ হাজার ৯৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬ হাজার ৭৭৫ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে ৩ হাজার ৯৮৩ জন এবং ছেলে ২ হাজার ৭৯২ জন। এ বিভাগে জিপিএ—৫ পেয়েছে ৪৩৫ জন। তাদের মধ্যে ছেলে ২২৮ জন এবং মেয়ে ২০৭ জন।

মানবিক বিভাগে ৪০ হাজার ১৭৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৬ হাজার ৯৮৩ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে ১১ হাজার ৩৭১ জন এবং ছেলে ৫ হাজার ৬১২ জন। এ বিভাগে জিপিএ—৫ পেয়েছে ৪৮১ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৩৬৫ জন এবং ছেলে ৯৬ জন।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ৪৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ২১২ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে ১ হাজার ১৫১ জন এবং ছেলে ১ হাজার ৬১ জন। এ বিভাগে জিপিএ—৫ পেয়েছে ৫৪ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৩৫ জন এবং ছেলে ১৯ জন।

জেলাভিত্তিক ফলে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে পিরোজপুর। এ জেলার ৪৭টি কলেজ থেকে ৬ হাজার ৭৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৪৯৬ জন। জিপিএ—৫ পেয়েছে ৬৬ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৪৫ জন এবং ছেলে ২১ জন।

বরিশাল জেলার ১০৭টি কলেজ থেকে ২০ হাজার ৯২৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০ হাজার ৪৫৩ জন। এ জেলায় জিপিএ—৫ পেয়েছে ৬২২ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৩৬৮ জন এবং ছেলে ২৫৪ জন।

বরগুনার ৩৬টি কলেজ থেকে ৫ হাজার ৭৭৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৫৭৯ জন। এ জেলায় জিপিএ—৫ পেয়েছে ৬৯ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৫১ জন এবং ছেলে ১৮ জন।

ভোলার ৫৯টি কলেজ থেকে ৯ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পাস করেছে ৩ হাজার ৭৭২ জন। এ জেলায় জিপিএ—৫ পেয়েছে ৭৯ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৬০ জন এবং ছেলে ১৯ জন।

পটুয়াখালীর ৭০টি কলেজ থেকে ১০ হাজার ৪৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪ হাজার ১৭ জন। এ জেলায় জিপিএ—৫ পেয়েছে ৭৬ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৫১ জন এবং ছেলে ২৫ জন।

ঝালকাঠির ৩১টি কলেজ থেকে ৪ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ হাজার ৬৫৩ জন। এ জেলায় জিপিএ—৫ পেয়েছে ৩৮ জন। তাদের মধ্যে মেয়ে ৩২ জন এবং ছেলে ৬ জন।

এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১১টি কলেজ থেকে ৩৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বরগুনার কদভানু মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ; ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা জালাল আহমেদ কলেজ, লালমোহনের রামাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সদর উপজেলার মিদুয়া কলেজ; পটুয়াখালীর গলাচিপার বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া কলেজ ও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ; পিরোজপুরের নাজিরপুরের দীঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কদমতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ; ঝালকাঠির নলছিটির এডভোকেট এইচআরকে ফাউন্ডেশন কৃষি প্রযুক্তি কলেজ এবং বরগুনার পাথরঘাটার হোগলাপাশা কলেজ।

অন্যদিকে, বরিশাল ক্যাডেট কলেজের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪১ জন এবং মানবিক বিভাগে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ—৫ পেয়েছে। এ ফলাফলের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ এ টি এম মোয়াজ্জেম হোসেন।

গত বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ—৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬৭৫ জন।

এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, মানসম্মত শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার অভাব এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের অসচেতনতা ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি বাড়িতে পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ফলাফলের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। আগের মতো শুধু জিপিএ—৫ পাওয়ার প্রবণতায় না ভেসে শিক্ষার মানের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল মেনে নিয়ে আগামী দিনে ভালো করার প্রস্তুতি নিতে হবে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, এবার সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই এ বিষয়ে ফেল করেছে। ইংরেজিতে ভালো করতে পারলে সামগ্রিক ফল আরও ভালো হতো বলে মনে করেন তিনি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost