মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে থাকা বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইকগুলো দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকলেও এগুলোর নামে নিয়মিত বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অকেজো এসব যানবাহনের নামে প্রতি মাসে হাজার টাকা খরচ দেখানো হচ্ছে। এমনকি সংস্কারের নামেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের তথ্য রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হাবিবুর রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতসংলগ্ন টুরিস্ট পুলিশ বক্সের পাশেই পড়ে আছে মরিচাধরা কয়েকটি বিচ বাইক। দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভাবে এগুলো প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এগুলো কখনও উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত হতো। অথচ কাগজে-কলমে এসব যানবাহন সচল দেখিয়ে নিয়মিত খরচ তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অপরদিকে পর্যটন হলিডে হোমস্ মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায় ওয়াটার বাইকগুলো। মোটকথা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সচল কোন যান নেই টুরিষ্ট পুলিশের। তারা এখন ননীর পুতুলের মত বসে থাকে বক্সে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এসব বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক ব্যবহার করে সমুদ্রে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো।
গভীর সমুদ্রে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাওয়া পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এসব যান। কিন্তু বর্তমানে সেগুলোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে উত্তাল হয়ে ওঠে কুয়াকাটা সমুদ্র। এ সময় অতীতে একাধিক পর্যটক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অথচ টুরিস্ট পুলিশের নিজস্ব সচল উদ্ধার যান না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের।
কুয়াকাটার টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাজী সাঈদ বলেন,টুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য থাকলেও বাস্তবে তার তেমন প্রতিফলন দেখা যায় না। বৈশাখ মাস থেকেই সমুদ্র ভয়ংকর রূপ নেয়, তখন উদ্ধার সরঞ্জাম সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে যা অবস্থা, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কুয়াকাটা টুরিজম ম্যানেজমেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হোসাইন আমির বলেন, সমুদ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক খুবই প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো বছরের পর বছর অচল পড়ে আছে। যদি সত্যিই বিল উত্তোলন হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
খুলনার খালিশপুর থেকে সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক রাজিব দেবনাথ অভিযোগ করেন, এখানে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। টুরিস্ট পুলিশ থাকলেও তাদের তৎপরতা চোখে পড়ে না। বরং সৈকতে ইজিবাইক, অটো, মোটরসাইকেল ও হকারদের উৎপাতেই বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বিচ বাইকগুলো বহুদিন ধরে পড়ে আছে। কোনো কাজেই ব্যবহার হয় না। কিন্তু শুনছি এগুলোর নামে প্রতি মাসেই টাকা তোলা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে এসব বাইক সংস্কারের জন্য লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে দায়সারা বক্তব্য দিলেন টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিছু যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। নিরাপত্তা জোরদারে টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।
টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (বরিশাল বিভাগ) অনির্বাণ চাকমা বলেন, বিচ বাইক ও অকেজো যানবাহনের বিষয়ে আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তবে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। তৈল বাবদ যে খরচ আসে, তা লেম্বুর বন ও গঙ্গামতি এলাকায় ডিউটির কাজে ব্যয় করা হয়।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।