শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
বরিশাল নগরীতে স্বাস্থ্যসেবার নামে অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহার ও প্যাথলজি রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগে কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যৌথ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নগরীর প্যারারা রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানায়, এনএসআই বরিশাল জেলার গোপন তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ও রিএজেন্ট ব্যবহার, টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়া সেবা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক অপূর্ব অধিকারীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে রোগ নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ও রিএজেন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানের ফ্রিজ ও সেলফে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে জানান কর্মকর্তারা। সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, যেখানে রোগীদের প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখে করেন অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা।
অভিযানে দি হিউম্যান কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেসকে ৭ হাজার টাকা মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টার কে ২০ হাজার টাকা এবং সাউথ এভার কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে একটি মিষ্টির দোকানকেও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৭ হাজার টাকা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক অপূর্ব অধিকারী জানান, বরিশাল নগরীর ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসি ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিক নজরদারির আওতায় থাকবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযানে জেলা এনএসআই বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা—কর্মচারী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সদস্য এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স অংশ নেয়।