শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ওয়ারিশ বাদ দিয়ে নামজারির চেষ্টা, মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ ভূমি কর্মকর্তার চরমোনাই খালের মোহনায় মালবাহী ট্রলারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আতঙ্কে নৌপথের ব্যবসায়ীরা লাখ টাকা চাঁদাবাজি, বহিষ্কার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রদল নেতা ভোলায় আলাদা দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু বরিশালে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরিমানা ৪৭ হাজার আগৈলঝাড়ায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে চাপাতি ধরে হত্যার হুমকির অভিযোগ চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ: ক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চিরকুট রেখে গলায় ফাঁস দিলেন মাদরাসা শিক্ষক কাঁঠালিয়াতে ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনিতে নিহত ১ রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
লাখ টাকা চাঁদাবাজি, বহিষ্কার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রদল নেতা

লাখ টাকা চাঁদাবাজি, বহিষ্কার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রদল নেতা

ট্রাক থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

জানা গেছে, ভোলা—বরিশাল মহাসড়কে মাছের পোনাবাহী গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি, গাড়ি ভাঙচুর এবং চালককে মারধরের অভিযোগ উঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় তলব করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপরই শাখার সহসভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

‘আমাকে এখানে ফাঁসানো হচ্ছে ভাই। খায় সবাই মিলে কিন্তু নাম হয় শুধু আমার, এ ঘটনার সঙ্গে এলাকার কিছু লোকও জড়িত রয়েছে। আমি দ্রুত সাংবাদিকদের মাধ্যমে মূলহোতাদের নাম সামনে নিয়ে আসব।’—বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মিয়া বাবুল

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ—সভাপতি মিয়া বাবুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ভোলা—বরিশাল মহাসড়কে পোনাবাহী গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি করা হয়। এই চক্রে সহ—সভাপতি মো. মিঠু, সহ—সভাপতি আকিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন স্বজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত, সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হায়দার মুন্সি, শাহরিয়ারসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত। তবে সহসভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় তাদেরকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেয় এবং বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১৯ মে ভোর ৪টার দিকে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা রেনু পোনা বহনকারী একটি গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় করা হয়। গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলারোড এলাকায় রেখে চালক ও মালিককে তুলে নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসায়। সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ সময় চালক ও মালিককে মারধরও করা হয়।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ভোলা—বরিশাল মহাসড়কের তালুকদার মার্কেট এলাকায় ইলিশ মাছের গাড়ি আটকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে চালককে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।

চিংড়ি পোনার মালিক ও ভুক্তভোগী আফতাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদেরকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোলারোডের গাড়ি নির্জনে রেখে আমাদের ভোলারোডে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের ঠিক সামনে বরাবর দ্বিতীয় তলায় মিজানের ভাড়া বাসায় নেয়া হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে আমাদের থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। আমরা বিষয়টি সুষ্ঠু বিচার চাই, ওরা ছাত্রদল করুক কিন্তু চাঁদাবাজি কেন করবে?’

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিকাশে নেওয়া টাকা পরদিন সকাল ৯টার দিকে মিয়া বাবুল ও সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হায়দার মুন্সিসহ চারজন গিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে তুলে নিয়ে আসেন।

ফার্মেসি ও বিকাশ দোকানি লোকমান বলেন, ‘বুধবার সকাল ৯টার দিকে মিয়া বাবুল আমাকে কল দিয়ে বলেন—‘মামা, আপনার নাম্বারে টাকা পাঠাইছি। আমার এক বন্ধু অসুস্থ, টাকাটা জরুরি লাগবে।’ পরবর্তীতে আমি নাম্বার মিলিয়ে তাকে ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা ক্যাশ বুঝিয়ে দিই।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছাত্রদল সভাপতির নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ও সহ—সভাপতি মিঞা বাবুল এই চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের আরেকটি গ্রুপও মহাসড়কে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ১৯ মে রাতেই সিনিয়র সহ—সভাপতি আশিক ও সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইত্তেসাফ আর—রাফির অনুসারীরাও গাড়ি আটকাতে অবস্থান নেন। পরে একটি পোনাবাহী গাড়ি ধাওয়া করতে গিয়ে ছাত্রদলকর্মী আরাফাত আহত হন। এরপর রূপাতলীতে আরেকটি গাড়ি আটকিয়ে ভাঙচুর ও চালককে মারধর করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহ—সভাপতি মিঞা বাবুল আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাঁচ আগস্টের পর তিনি ছাত্রদলে যোগ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ চাঁদাবাজ রাজিব মণ্ডলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে সভাপতির তদবিরে তিনি সহ—সভাপতির পদ পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে মিঞা বাবুল বলেন, ‘আমাকে এখানে ফাঁসানো হচ্ছে ভাই। খায় সবাই মিলে কিন্তু নাম হয় শুধু আমার, এরসাথে এলাকার কিছু লোকও জড়িত আছে। আমি দ্রুত সাংবাদিকদের মাধ্যমে মূলহোতাদের নাম সামনে নিয়ে আসব।’

বরিশাল বন্দর থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যে চাঁদাবাজি করছে বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি আমাদের ঊর্ধ্বতন মহলেও জানে। আমাদের সকল অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল বাড়িয়েছি। উপযুক্ত প্রমাণসহ হাতেনাতে ধরতে পারলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost