শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
বরিশালের বানারীপাড়ায় পৈত্রিক সম্পত্তির নামজারিতে বৈধ ওয়ারিশদের বাদ দেওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
জানা গেছে, বানারীপাড়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ইউনিয়ন ভূমি উপ—সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বাইশারী চাখার কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল কাইউম আকন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ—সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, আবদুল কাইউম আকন তার পিতার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির নামজারির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ওই সম্পত্তির মোট ১২ জন বৈধ ওয়ারিশ থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্য ১১ জন ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ জমি নিজের একক নামে নামজারির আবেদন করেন।
তিনি আরও জানান, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৪০৫৬৫৯৭ এবং ৪০৫৬৬৪৪ নম্বরের দুটি ই—নামজারি আবেদন সহকারী কমিশনার (ভূমি), বানারীপাড়া বরাবর জমা দেওয়া হয়। পরে সরেজমিন তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রদানের জন্য আবেদন দুটি তার কাছে পাঠানো হয়।
কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবেদনকারী অন্য ওয়ারিশদের অংশ বাদ দিয়ে পুরো সম্পত্তি নিজের নামে নামজারির চেষ্টা করেছেন, যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী সঠিক নয়। এ কারণে আবেদন দুটি নামঞ্জুরের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), বানারীপাড়া বণ্টননামা ছাড়া এবং একজন ওয়ারিশের মাধ্যমে সকল ওয়ারিশের সম্পত্তি নামজারির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় মর্মে গত ৬ মে ২০২৬ এবং ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে আবেদন দুটি নামঞ্জুর করে নিষ্পত্তি করেন।
মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, আবেদনকারী তার কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বানরীপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)নুসরাত নওশীন বলেন একজন ব্যাক্তি তাদের প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম বাদ দিয়ে একার নামে নামজারি করতে আসে আমাদের সন্দেহ হলে আমি বানারীপাড়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ইউনিয়ন ভূমি উপ—সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান কে দিয়ে তদন্ত করি সেখানে তাদের ১১জন ওয়ারিশে নাম উঠে আসায় তাদের আবেদনটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন অনুযায়ী সকল ওয়ারিশের অধিকার নিশ্চিত করেই নামজারির কার্যক্রম সম্পন্ন করা উচিত।