শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
দৌলতখান উপজেলা—এ যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দিতে না পারায় ফিমা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সজিবসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
নিহত ফিমা আক্তার বোরহানউদ্দিন উপজেলা—এর গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে দৌলতখানের কলাকোপা গ্রামের সজিবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুক হিসেবে একটি মোটরসাইকেলের জন্য ফিমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে স্বামী সজিব মোটরসাইকেল দাবি করলে আর্থিক সংকটের কারণে তা দিতে পারেনি ফিমার পরিবার। এরপর থেকেই ফিমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের মা তাহনুর বেগম মেয়ের মরদেহের পাশে আহাজারি করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, মোটরসাইকেল দিতে পারিনি। তাই তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।”
নিহতের ভাই মো. শিপন জানান, ঈদের দিন রাতেও ফিমা তার মা ও ছোট বোনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ফোনে কথা বলেছেন। তবে রাত চারটার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়, ফিমা অসুস্থ। সকালে তারা সেখানে গিয়ে ঘরের মেঝেতে ফিমার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯—এ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বাংলাদেশ পুলিশ—এর দৌলতখান থানা—র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং নিহতের নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।