শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির একটি অংশ ওসির অপসারণ দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কে উপজেলার তুষভান্ডার বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন থেকে ওসিকে অপসারণের দাবি করে।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি দুগ্রুপে বিভক্ত, যার একটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি লালমনিরহাট ২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। অপরটি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম।
গত ৬ জুন রাতে রংপুর শহর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আদিতমারী সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাশকতার মামলার ২৪ নম্বর এজাহার নামীয় অভিযুক্ত আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম দুজনে ভায়রা ভাই। আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা মাত্রই ওসিকে ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানালে ওসির ওপর ক্ষিপ্ত হন বিএনপির এ নেতা।
একই নাশকতার মামলায় গত বুধবার আওয়ামী লীগের এক কর্মী রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। রমজানকে মৎস্যজীবী দলের গোড়ল ইউনিয়নের সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করে বিএনপির আহ্বায়ক গ্রুপ। তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির এ গ্রুপটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, সম্পদশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার না করে আমাদের মৎস্যজীবী দলের ইউনিয়ন শাখার নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি মাদকের রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলেছে এ উপজেলাকে। তাই ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে অপসারণ করতে হবে। নয়তো বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহন করা হবে।
বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় নানান আলোচনা সমালোচনা। টিটুল ইসলাম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলির পাটা হচ্ছেন কালীগঞ্জ ওসি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, মূলত আওয়ামীলীগ নেতা আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করায় ওসির ওপর ক্ষিপ্ত হন বিএনপির একটি অংশ। কারণ এ অংশের যিনি নেতা তার আত্মীয় হন আজিজার। আজিজার আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতা, তার বিষয় না তুলে রমজানকে মৎজীবী নেতা বানিয়ে আন্দোলনের সুযোগ নেন গ্রুপটি।
উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী জাদু বলেন, রমজান আলী নামে আমরা কাউকে চিনি না আর গোড়ল ইউনিয়ন শাখাসহ সাংগঠনিক পদ দাবি করা অনর্থক। মূলত ওই ইউনিয়নে কোনো কমিটিই দেওয়া হয়নি।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান আমার আত্মীয়। তাকে গ্রেপ্তারের দিন থানায় ফোন করেছেন কি না এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান তিনি।
কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান নাশকতার মামলার এজাহার নামীয় আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা সম্ভবত তার নিকট আত্মীয়। এ কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দায়িত্ব পালন করছি। অপরাধী কার আত্মীয় সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।