সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে দুই কাউন্টারকে জরিমানা, বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও বাস ব্যবসার অভিযোগে জমি বিরোধের জেরধরে মুলাদীতে ভাতিজার হামলায় চাচা নিহত, গ্রেপ্তার ৪ ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে মেজর চেঞ্জ করেছি, ওসিকে সরিয়েছি’—এমপি মাসুদের বক্তব্য ভাইরাল নলছিটিতে দম্পতিকে মারধর ও ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত, আহত ৩ বরগুনায় জেলেদের জালে উঠা অজানা যন্ত্রে আতঙ্ক বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী-ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার তোফায়েল আহমেদ আর নেই রামিসাকে হত্যায় দুই লাখ টাকা দেওয়া কে এই ডলার? ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ
৩২ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির

৩২ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির

জাতীয় নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিভাগভিত্তিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ভোট সম্পন্ন করতে মোট ৩২ ধাপের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বিবেচনা করা হবে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার সূত্র জানায়, চলতি বছরেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আট বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আট ধাপে হতে পারে। অর্থাৎ রাজশাহী বিভাগের ৫৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা হবে। একইভাবে বাকি বিভাগগুলোর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।
শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করতেই প্রয়োজন হবে আটটি ধাপ। একইভাবে বিভাগভিত্তিক উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করা হলে মোট ৩২টি ধাপ লাগতে পারে। তবে এগুলো এখনো প্রাথমিক পরিকল্পনা। সরকার থেকে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত এলে সে অনুযায়ী কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কত ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা বিভাগভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছি। কারণ, সারা দেশে একসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন করতে পারলে একটি বিভাগে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হওয়ার কথা নয়।’

বিভাগভিত্তিক নির্বাচন হলে ওই বিভাগের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন একসঙ্গে হবে, নাকি আলাদাভাবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ধরুন প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হলো। তখন রাজশাহী বিভাগের সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করা হবে। এরপর ময়মনসিংহ বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। এভাবে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। পরে একই পদ্ধতিতে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনও আয়োজন করা হবে।’
কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চান— জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘যেখানে জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখান থেকেই নির্বাচন শুরু করতে চাই। সে হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের প্রয়োজন বেশি। তবে বর্ষা মৌসুমে নির্বাচন শুরু হলে সব এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না।’

কোন বিভাগ দিয়ে নির্বাচনের যাত্রা শুরু হতে পারে— জানতে চাইলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া সরকারের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময়ের একটি বিষয় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সব পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন বর্তমানে জনপ্রতিনিধিশূন্য। জেলা পরিষদে সরাসরি নির্বাচন হয় না। তাই এই তিন ধরনের প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন যেকোনো সময় আয়োজন করা সম্ভব। এ ছাড়া আইন ও বিধি সংশোধনের কাজ চলছে, যা আগামী জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এরপর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।’

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি এবং আগামী বছর আরও ৩৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ফলে দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০। নতুন উপজেলার মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা করা হয়েছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে।

এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়াও আরও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost